বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

স্বচ্ছতা ও সততা

 স্বচ্ছতা আর সততাঃ অমরনাথ কর্মকার  ০৩/০৯/২০২০

সরকারী কাজে, রাজনীতিতে আজকাল 'স্বচ্ছতা' শব্দটা বহুল ব্যবহৃত। স্বচ্ছতা আর সততার ফারাক খুঁজতে গিয়ে সবকিছু গোলমাল হয়ে যাচ্ছে।  ধরুন আমার অফিসের খগেন বাবু  (কাল্পনিক) অত্যন্ত সৎ।  এক পয়সা কারোর কাছ থেকে ঘুষ নেন  না। সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করেন। যথেষ্ট দক্ষতা আছে কাজে।  বেআইনি কাজ করেন না।  অন্যায় কাজ দেখলে প্রতিবাদ করতেও ছাড়েন না। পক্ষান্তরে, অফিসের অধিকাংশ কর্মচারীই অসৎ পথে পকেট ভরাতে ব্যস্ত। স্বভাবতই তাদের মধ্যে সবসময়ই একটা গোপনীয়তার আবহ বিরাজ করে। একদিন কৌতুহল চাপতে না পেরে খগেন বাবুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম - আচ্ছা খগেন দা, এই যে আপনি এক পয়সা ঘুষ নেন না, এত নিয়ম কানুন মেনে কাজ করেন তাতে কি মনে হয় মানুষ জন আপনাকে  সৎ ব'লে সম্মান করে ?  সবাই কি আপনার কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশংসা করে?  উত্তরে খগেন বাবু আমার কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন - আমার কাজের স্বচ্ছতা প্রমাণ করার কোন পথ খোলা নেই। দেখ আমি যদি কাচের ঘরে বাস করতাম তাহলে সবাই আমাকে বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখতে পেত। আমি অন্ধকারে বাস করি। সেই অন্ধকার ভেদ ক'রে আমাকে দেখার কোন উপায় নেই। তাই সাধারণভাবে আমার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অবশ্য যদি কেঊ কখনো আলো ফেলে আমাকে দেখার চেষ্টা করে তবে সে নিশ্চয়ই আমাকে চিনে নেবে। কিন্তু আলো ফেলবে কে?  কথাগুলো ব'লেই খগেন বাবুর হাত আমার পিঠ স্পর্শ করল। মুচকি হেসে আমার কাঁধে হাত রেখে বললেন, আমি বুঝতে পারছি তুই আমার ওপর আলো ফেলার চেষ্টা করছিস। আমি লাজুক হেসে বললাম - আর আপনার সততা ?  সেও কি প্রশ্নের মুখে ?  বললেন - যতই প্রশ্ন চিহ্ন থাক, অনেস্টি ইজ দ্য বেস্ট পলিসি। বহুশ্রুত এই ইংরেজি প্রবাদ মূল্যবান অর্থ বহন করে। আমি এই মূল্যবান পথেই চলি তাতে আমার মূল্যমান যাই হোক না কেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  দূর থেকে ছোট লাগে          অমরনাথ কর্মকার ১৮/০৪/২০২৬ কোনদিন যাওনি কাছে,  বোঝনি তাই দূর থেকে ছোট লাগে  সব তারারাই। অনেক আলোকবর্ষ দূরে এমনও ...