সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০২১
বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২১
শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১
দশমীতে মন খারাপ - ১৫/১০/২০২১
দশমীতে মন খারাপ ১৫/১০/২০২১ – কথা যখন দিয়েছিলাম ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতি বছরের মত এবারেও মন খারাপের বৃত্তান্ত লিখব, তখন লিখতেই হবে। তাছাড়া সব ভালো যার শেষ ভালো। যদিও শেষটা ভালো হ’ল না, কারন দিনের শেষে আকাশ চোখ রাঙাতে শুরু ক’রে এখনোও চালিয়ে যাচ্ছে তার খামখেয়ালিপনা। আজ তো স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ সবার। আমার মন খারাপ ভিন্ন কারনে। উৎসব শেষ হয়্রে গেল ব'লে একটুও নয়। আমার খারাপ লাগছে বিজয়া দশমীতে পারস্পরিক মিলনের করুন অবস্থা দেখে। কোভিডের আতঙ্কে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে তো এতদিন অনেক কিছুই চলল। কিন্তু কোলাকুলি, প্রণাম, আশির্বাদ এগুলো কি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সম্ভব। স্পর্শ না থাকলে অনুভূতি অনুপস্থিত। মানুষ তো আর রোবট নয়, রীতিমত রক্ত-মাংসে গড়া। অতএব, স্পর্শ ছাড়া অনুভূতি আসা অসম্ভব। হ্যাঁ, মন দিয়েও অনুভূতির আস্বাদ মেলে। সে তো ব্যতিক্রমী উচ্চ দর্শন। প্লেটোনিক প্রেম, ইউটোপিয়া এসব সাধারণ ব্যাপার-স্যাপার নয়। কোলে কোলে মিলনের নাম কোলাকুলি। অতএব সোস্যাল মিডিয়ায়, অন লাইনে কোলাকুলি আদৌ সম্ভব নয়। বিদেশ থেকে বাবা ছেলেকে যতই আশির্বাদ করুন ভিডিও কলে, আশির্বাদের হাত তো আর ছেলের মাথায় পড়ে না! কিংবা বাবার পায়ে ছেলের হাতের স্পর্শ পেলে বাবার যে অনুভূতি হয় তা কি ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্ভব? মোটকথা এগুলো মূলত যান্ত্রিকতা, মানবিকতা বা সামাজিকতা কোনটাই নয়। গত বছরের মত এবছরেও দশমীতে বাঙালীর এই বঞ্চনা প্রবহমান। জানিনা, এই বঞ্চনাই একদিন হয়ত স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হবে কি না। কল্পবিজ্ঞানের বিখ্যাত লেখক উইলিয়াম গিবসনের স্বকপোলকল্পিত 'ভার্চুয়াল জগত' আজ কল্পবিজ্ঞানের গণ্ডী ছাড়িয়ে সটান হাজির আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। মানুষে মানুষে যে যোগাযোগ ও লেনদেন তা বাস্তব জীবনের বিপরীতে বিশ্বজনীন করার স্বপ্ন সত্যি সত্যিই আজ সফল হতে চলেছে এবং কোভিড-১৯ নামক অপ্রত্যাশিত অতিমারীর প্রভাব নিঃসন্দেহে একে ত্বরান্বিত করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের মত অনুন্নত দেশে ভার্চুয়াল পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা কতটা? যে দেশে অধিকাংশ মানুষ কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন ব্যবহার তো দূরের কথা,বেঁচে থাকার রসদ সংগ্রহের জন্যে হিমশিম খায় সেখানে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পড়াশুনা চালানো বা নানাবিধ কাজ সম্পন্ন করা সত্যি দুরুহ। আর শিক্ষার হার কম হবার কারনে অত্যাধুনিক এই ভার্চুয়াল ব্যবস্থার ইতিবাচক দিক নিয়েও অনেকে সন্দিহান। ফলে উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মত আমাদের দেশে ভার্চুয়াল যোগাযোগ দ্রুত সর্বজনীন হওয়া সম্ভব নয়। তবুও শত অসুবিধা সত্ত্বেও নিরুপায় হয়ে মানুষকে এই ভার্চুয়াল পথেই হাঁটতে হচ্ছে। গত বছর বেশির ভাগ মানুষই বাড়িতে ব’সে টিভিতে বা সামাজিক মাধ্যমে পুজোর আনন্দ উপভোগ করেছে। এবারে করোনার প্রকোপ কম থাকায় দুর্গাপুজো্র আনন্দ ফিরেছিল অনেকটাই স্বাভাবিক ছন্দে। কিন্তু এই ছন্দে ফিরতে গিয়ে যে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে তাতে আগামী বছরের পরিণাম নিয়ে চিকিৎসক মহন যথেষ্ট সন্দিগ্ধ। তবে আশা করব, মানুষ মানুষের পাশে থাকুক সশরীরে, ভার্চুয়াল পথে আর যাই হোক মেলামেশার অনুভূতিটা ঠিক পাওয়া যায় না। মুখচ্ছদে ঢাকা মুখ মুখোশ মনে হয়। মনটা ভালো হতে শুরু করেছিল এমনিতেই। তারপর এতগুলো মনের কথা শব্দের আকারে সাজিয়ে তুলে মনটা আরোও খানিকটা হাল্কা লাগছে। শেষ পাতে দই-এর মত লেখার শেষে আমার লেখা একটা ছড়া পরিবেশন না ক’রে পারছি না।
মন খারাপের সুরঃ অমরনাথ কর্মকার
রঙ বেরঙে এই ক’টা দিন
কাটলো ভালো
আজকে হঠাৎ পালটে গিয়ে
সাদা-কালো।
এই ক’টা দিন বাজছিল ঢাক
ঢ্যাং কুরাকুর
আজকে কেন বাজছে তবে
মন খারাপের সুর ?
‘ঠাকুর থাকবে কতক্ষন ?
ঠাকুর যাবে বিসর্জন।‘
সবাইকে শুভ বিজয়ার আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এবং সারাবছর সকলের সুস্থতা ও শান্তি কামনা ক’রে এবছরের মত ‘পুজোয় মনখারাপ’ শেষ করলাম। শুভরাত্রি।
বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১
নবমীতে মন খারাপ ১৪/১০/২০২১
নবমীতে মন খারাপ ১৪/১০/২০২১
পূজোর আনন্দ অবসানের প্রাকমুহূর্তে, নবমী নিশি অতিক্রান্ত না হওয়ার আকুতি জানিয়ে সকলেরই বাসনা উৎসবের আনন্দ আরও একটু স্থায়ী হোক । আজ তাই সবার মন খারাপ । আর আমার তো এমনিতেই মন খারাপ হয়ে আছে । মন খারাপ দিয়ে শুরু করেছিলাম ষষ্ঠী থেকে – সেই মনখারাপ প্রবহমান নবমীর রাত পর্যন্তও । বৃষ্টির পূর্বাভাসে পুজোর আনন্দ মাটি হবার আভাস ছিল কিন্তু সে আগুনে বৃষ্টির জল না পড়ায় জনজোয়ার জারি ছিল। আজ বোধ হয় সকলেরই মন খারাপ । সন্ধ্যে বেলা রাস্তায় বেরিয়ে দেখলাম জনারণ্যে যাত্রাপথের গতি শ্লথ হয়ে পড়ছে। সকলেই যেন আনন্দের শেষ দিনে উৎসবের উপভোগ্যতাকে চেটেপুটে খেতে মরিয়া। সেই জণারন্যে আমি অবশ্য একা। সত্যিই তো ‘যেওনা নবমী নিশি’ বলে যতই কাতর আবেদন থাক, আসলে সৌর নিয়মে সে নবমীর রাত ঠিকই অতিক্রান্ত হবে। রাত্রে শুতে আসার আগে মা বলে দিল ‘আজকের রাতটা বড় – তাই গেটে তালা দেওয়া আছে কি না দেখে নিস আর রাত্রে একটু সজাগ থাকিস’। মা তাঁর বিশ্বাস থেকে একথা বলেছে জানি। কিন্তু এর অন্তর্নিহিত সত্যটাকে তো অস্বীকার করার উপায় নেই। সকলেই আনন্দের স্থায়ীত্ব চায়। দৈনন্দিন জীবনেও মানুষ একই প্রত্যাশা করে। সেক্ষেত্রে কোন উপলক্ষ থাকে না, কিন্তু দুর্গাপুজোর আনন্দের উপলক্ষ্যকে সম্বল ক’রে সবাই আনন্দের স্থায়ীত্ব কামনা করে। তাদের মন খারাপের নির্দিষ্ট কারন আছে – উৎসবের আনন্দের অবসান আর দেবী দুর্গার ‘অদ্য শেষ রজনী’র বিহ্বলতা । ওসবে আমার মন নেই । আমার মন খারাপের কারন হয়ত আছে কিন্তু শত অনুসন্ধানেও তার হদিশ পাচ্ছি না । নবমীর বাতাসে বিষাদ – সবার মন খারাপ । কোভিডের অতিমারীতে কত শত প্রাণ ঝরে পড়েছে, সেই টাটকা স্মৃতি অনেকটাই ম্লান হয়েছে প্রায় স্বাভাবিক ছন্দে পুজো ফিরে আসায়। বাঙালী আত্মঘাতি কি না জানা নেই, তবে এবারের পুজোর কোভিড বিধি ভাঙা জনস্রোত, ‘বুর্জ খলিফা’ দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষের সমাগম এসব দেখে আমার মনে হয়েছে বাঙালী বুঝি সত্যিই আত্মঘাতি। চিকিৎসকরা পর্যন্ত এই দৃশ্যের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে রীতিমত আতঙ্কিত। সত্যিই আমরা আনন্দের স্থায়ীত্ব চাই, কিন্তু যে আনন্দ অস্তিত্বের সঙ্কট ডেকে আনতে পারে, সে আনন্দের প্রয়োজন কোথায় ? আনন্দ করার ভিন্ন পন্থা ইতিমধ্যেই কোভিডের সৌজন্যে (?) আমরা শিখতে শুরু করেছি। ‘ভার্চুয়াল’ শব্দটা বোধ হয় বেশিরভাগ মানুষেরই বোধগম্য। এমনিতেই আমার মন খারাপ। তারপর এই সব গুঢ় ভাবনা ভেবে ভেবে আরও মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনছি অকারনে। এইসব বিষয় ভাবার জন্য সরকার আছে। পুজো শেষ পর্যায়ে। এইবার আমার মন খারাপের পালা সাঙ্গ হতে চলেছে। কাল দশমী। উৎসবের অন্তিম দিন। কালকেও লিখব আশা করি। এই অকারন অথচ অবধারিত মন খারাপের চক্রব্যুহ থেকে মুক্তি পাবার অপেক্ষায় আছি। না তার মানে এই নয় যে আর মন খারাপ হবে না। সত্যি বলতে কি আমি একটু বেশিই আবেগপ্রবণ। তাই সামান্য কারনেই মন খারাপ হয় আমার। সে মন খারাপের কারন থাকে – যা সকলেরই স্বাভাবিক প্রবণতা। আজ নবমীর দিনে সকলের মন খারাপের আবেশ আমার মন খারাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই মুহুর্তে মনকে বেশি ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। আজ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে নবমী শেষ করছি -
“মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই
কেউ তা বোঝে না সকলি গোপন মুখে ছায়া নেই
চোখ খোলা তবু চোখ বুজে আছি কেউ তা দেখেনি
প্রতিদিন কাটে দিন কেটে যায় আশায় আশায়
আশায় আশায় আশায় আশায় ......
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
দূর থেকে ছোট লাগে অমরনাথ কর্মকার ১৮/০৪/২০২৬ কোনদিন যাওনি কাছে, বোঝনি তাই দূর থেকে ছোট লাগে সব তারারাই। অনেক আলোকবর্ষ দূরে এমনও ...


