শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
যন্ত্রণার জল
যন্ত্রণার জল – অমরনাথ কর্মকার ২০/০৯/২০২১
বৃষ্টি যে লেপ্টে যাওয়া শাড়ির মত আমাদের অঙ্গে এভাবে জড়িয়ে যাবে ভাবিনি। রোদ্দুরও যে এতটা বিরতি নেবে জানা ছিল না। ছোট বেলায় বৃষ্টির আভাস পেলে অদ্ভুত অনুভূতি হ’ত। তখন বৃষ্টির শব্দ ভাসিয়ে নিয়ে যেত কল্পনার রাজ্যে। এখনো কল্পনার অবসান হয়নি। তবে ছোটবেলার কল্পনার সঙ্গে এখনকার কল্পনার বিস্তর ফারাক। এখন মেঘ করলেই আগাম কল্পনায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা । গতকাল রাতে যখন বৃষ্টি শুরু হ’ল, আশঙ্কার মেঘ জমা হতে শুরু করল মনে এবং সকাল হতেই সেই আশঙ্কা সত্যি হ’ল – ঘরে জল ঢুকল। দ্রুত চেষ্টায় কিছু জিনিস জলের হাত থেকে রক্ষা করতে পারলাম, কিছু পারলাম না। যেমন ল্যাপটপটাকে কোনরকমে বাঁচালাম বটে,, খাটের তলায় রাখা আবেশচুল্লিটাকে (ইনডাকশান ওভেন) কোনভাবেই রক্ষা করা গেল না। গত রাতে বৃষ্টির মাদকতায় যখন কবিতা আসছিল মনে তখন দুর্ভোগের উদ্বেগ বারবার সেই কবিতাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছিল। কল্পনা আর বাস্তবের দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত বাস্তবেরই জয় হ’ল এবং ঘুম ভেঙে দেখলাম জল থৈ থৈ ঘর। কোনোরকমে দুপুরের সংক্ষিপ্ত আহার খিচুরি ও মাছভাজা – তাও আবার টেবিলে নয় বিছানায় থালা হাতে নিয়ে গলাধকরণ। খাটে বসেই কাটছে দিন। বাড়ছে উদ্বেগের পারদ। এই বিপর্যয়ের সময়ে রোমান্টিকতা স্পর্শ করছে না মন, আসছে না বর্ষামঙ্গল, রবীন্দ্রনাথ উধাও। এখন চোখে শুধু যন্ত্রণার জল – জল-যন্ত্রণা। তবুও স্বভাবসিদ্ধ বাঙালীর মত এত যন্ত্রণার মধ্যেও এসে গেল কয়েক লাইন -
যখন দেখ মেঘ করেছে খুব
তুমি তখন আনন্দে দাও ডুব
ভাব তুমি এবার বৃষ্টি হবে অনেকক্ষণ
আমার কাছে মন খারাপের বিজ্ঞাপণ।
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
শিক্ষক হ'তে পারিনি
পড়িয়েছি - শিক্ষক হ'তে পারিনি
অমরনাথ কর্মকার ০৫/০৯/২০২১
'শিক্ষক দিবস' চ'লে গেল আজ। ছাত্র পড়িয়েই আমার ছাত্র-জীবনের শেষ দিকে আমার শিক্ষকের মাইনে দিয়েছি। বেকারত্বের জ্বালাও জুড়িয়েছি অনেক দিন। সঙ্গে ছিল নিজের জানাটাকে অন্যের মধ্যে সঞ্চালনের প্রতি আগ্রহ। প্রতিবছরই 'শিক্ষক দিবস' এলে আমার ফেলে আসা অতীতের শিক্ষকদের স্মরণ করি আমার অদক্ষ লেখনিতে। তাঁদের অনেকেই আজ আকাশের ধ্রুব তারা - অলক্ষ্যে আমার পথপ্রদর্শক। জীবনের প্রতিষ্ঠা বলতে সাধারণত যা বোঝায় তা আমি পাইনি। আবার কিছুই পাইনি তাও নয়। সাধারণভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকায় হয়ত অসুবিধা নেই। তবে আজ একটা জিনিস স্পষ্ট হ'ল - আমি ছাত্র পড়িয়েছি বটে, শিক্ষক হ'তে পারিনি। আমার ছাত্র-ছাত্রীরা আজ অনেকেই প্রতিষ্ঠিত, হাতে গোনা দু'একজন বাদ দিলে অনেকেই আমাকে ভুলে গেছে। ভোলারই কথা কারন তারা অর্থের বিনিময়ে আমার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছে, বলা ভাল শিক্ষা কিনেছে। অতএব, শিক্ষক- ছাত্রের এই ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্কই আজকের দিনে বাস্তব। বিক্রেতার কাছে ক্রেতা লক্ষ্মী। আর ক্রেতার কাছে বিক্রেতার মূল্য নগন্য। অনেক দুঃখ নিয়ে কথাগুলো লিখলাম। আজ আমার এক বন্ধুর মুখেও একই আক্ষেপ শুনলাম। একসময় প্রাইভেট টিউশানিতে ওর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। ও দুঃখ করেছে - আর আমি আমার দুঃখ লিখেই ফেললাম। আসলে মনটা স্বাধীন - হা হা ক'রে বিকট আওয়াজে হাসতে পারে, বুক ফাটিয়ে কাঁদতেও পারে। সে আওয়াজ কেঊ শোনে না - শোনে আমার হৃদয়।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
দূর থেকে ছোট লাগে অমরনাথ কর্মকার ১৮/০৪/২০২৬ কোনদিন যাওনি কাছে, বোঝনি তাই দূর থেকে ছোট লাগে সব তারারাই। অনেক আলোকবর্ষ দূরে এমনও ...
