শনিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

শিক্ষায় আমাদের কাল ও বর্তমান

শিক্ষার আমাদের কাল ও বর্তমান অমরনাথ কর্মকার ০৫/০৯/২০২১ শিক্ষক দিবস'-এর দিনে আমাদের সময়ের শিক্ষা আর বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান সম্পর্কে আকাশ-পাতাল ভাবতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেললাম। শেষ পর্যন্ত সব বাদ দিয়ে এক্কেবারে প্রাথমিক এবং জলজ্যান্ত ফারাকটা পেয়ে গেলাম। আমাদের হাতে খড়ি হ'ত কালো শ্লেটের ওপর পেন্সিলের সাদা রঙে বর্ণমালা লিখে। তারপর প্রাথমিক ইস্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে দু'এক বছর অতিক্রম করার পর হাতে উঠত খাতা আর কাঠের পেন্সিল। খাতা-পেন্সিল হাতে উঠতেই মনে মনে বড় হয়ে যাবার শিহরন জাগানো অনুভূতি হ'ত। তখন নার্সারি, কিন্ডার গার্টেন এসব ছিল কি না আমাদের জানা ছিল না, কারন তখন আমাদের মত গ্রামের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে থেকে শহুরে উচ্চবিত্তদের শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব ছিল না। যাই হোক আমাদের সেই শ্লেট-পেন্সিল এখন জাদুঘরের প্রদর্শনী। এখন খাতা-কলমেই বর্ণমালা শেখা শুরু। তাও অ-আ-ক-খ কতিপয় দারিদ্রপীড়িত বা বাংলাভাষার অনুরাগী মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বেশিরভাগই প্রথম থেকেই বাংলা বর্ণমালা বর্জন ক'রে ইংরেজী মাধ্যমে পড়ার উদ্দেশ্যে A-B-C-D'র প্রতি মনোযোগী। সে যাই হোক, মূল ব্যাপার হ'ল আমাদের সময়ে লেখা শুরু হ'ত কালোর ওপরে সাদা দিয়ে, এখন শুরু হয় সাদার ওপরে কালো বা নীল দিয়ে। স্কুলেও আমরা মাস্টারমশাইদের দেখতাম (কালো) ব্ল্যাক বোর্ডে সাদা চক দিয়ে লিখতে। এখনোও অনেক স্কুল-কলেজে সেই পদ্ধতিই চালু আছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এখন আর ব্ল্যাক বোর্ড নেই, তার পরিবর্তে সাদা বোর্ড আর তার ওপরে লেখা হয় মার্কার কলমের কালো, নীল (বা অন্য রঙের) কালি দিয়ে। মোদ্দা কথা, আগে কালোর ওপরে সাদা দিয়ে লেখা শুরু হ'ত, এখন হয় সাদার ওপরে কালো দিয়ে। এই পার্থক্য খুঁজে পাবার পর একটা যুক্তি খাড়া করার ইচ্ছে জাগছে। তাহলে কি আমাদের সময়ে অন্ধকার সমাজকে আলোর পথে উত্তরণই শিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল? সেই কারনেই কি তাহলে কালো শ্লেটে পেন্সিলের সাদা বর্ণে লেখা শুরু হ'ত? আর এখন ঠিক তার বিপরীত! বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট বিচার করলে আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার মাথায় উদ্ভুত যুক্তিকে অগ্রাহ্য করতে পারছি না। যেভাবে সামাজিক অবক্ষয় বর্তমানে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে তা আমার যুক্তিকেই সমর্থন করে। অর্থাৎ সাদার ওপরে পড়ছে কালো বা অন্য কোনও রঙ। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা আগের চেয়ে ভালো না খারাপ এসব বিতর্কে গিয়ে লাভ নেই, সেসব ভাবার জন্য শিক্ষাবিদরা রয়েছেন। আমি শুধু শিক্ষার সঙ্গে সমাজের রসায়ন নিয়ে ভাবছি। আজ শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের কথা ভাবার পরিবর্তে এই সব হ-য-ব-র-ল চিন্তা ভাবনা মাথায় এসে গেল। শিক্ষকরা তাঁদের যথাযথ মর্যাদা পান - এই আশা রাখি।

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১

উচ্চ মাধ্যমিকে অকৃতকার্যদের ক্ষোভ

উচ্চ মাধ্যমিকে অকৃতকার্যদের ক্ষোভের কারন আদৌ অযৌক্তিক নয়। মাধ্যমিকে এবারে পাশের হার একশ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হার প্রায় ৯৮ শতাংশ। উভয় ক্ষেত্রেই কোন পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। হ্যাঁ, মানলাম, দুই পরীক্ষার ক্ষেত্রে মূল্যায়নের মাপকাঠি ভিন্ন। কিন্তু পাশের হারের এই বৈষম্য কেন? মূল্যায়নের মাপকাঠির বিচারে উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হার মাধ্যমিকের তুলনায় কম হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেখানে ফেল করল মাত্র দুই শতাংশ প্রায়। তাহলে মূল্যায়নের মাপকাঠির নিরিখে মাধ্যমিকে কি ফেল করার মত কেউ ছিল না? উচ্চ মাধ্যমিকের মাত্র দুই শতাংশ ছাত্র-ছাত্রীই হয়ে গেল বঞ্চনার শিকার। আর সেই কারনেই এই দুই শতাংশের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আমার মনে হয় এই ক্ষোভের আগুন মোটেই ছড়াত না যদি উচ্চ মাধ্যমিকের সবাইকে মাধ্যমিকের মতই পাশ করিয়ে দেওয়া হ'ত অথবা উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হার প্রায় একশ শতাংশ না হয়ে আরোও অনেকটা কম হ'ত । অমরনাথ কর্মকার

জীবন মৃত্যুর সীমানা

  দূর থেকে ছোট লাগে          অমরনাথ কর্মকার ১৮/০৪/২০২৬ কোনদিন যাওনি কাছে,  বোঝনি তাই দূর থেকে ছোট লাগে  সব তারারাই। অনেক আলোকবর্ষ দূরে এমনও ...