শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

পুজোয় মন খারাপ – ২০২৬

 

পুজোয় মন খারাপ – ২০২৬


অমরনাথ কর্মকার ১৬/১০/২০২৬


ষষ্ঠী : সেই ছোট বেলা থেকেই খেয়াল করছি পুজো এলেই আমার মন খারাপ হয়, তখন সেই মনখারাপ আনন্দ-উচ্ছ্বাস, হৈহুল্লোরের অন্তরালে সুপ্ত থাকত, হঠাৎ হঠাৎ সেই অনুভূতি মনকে উদাস ক'রে দিত, তবে তা ছিল ক্ষনস্থায়ী। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই মন খারাপের অনুভূতি ক্রমশ দীর্ঘস্থায়ী হতে শুরু করেছে। পুজো এলেই কেন এই মনখারাপ? তন্ন তন্ন করে অন্বেষণ করেও তার কারন খুঁজে পাইনি।

মন খারাপ আর বিষন্নতা দুটি ভিন্নার্থক হ'লে আমার মন খারাপ কি আসলে বিষন্নতা? জানিনা, জানার চেষ্টাও করি না কখনো। মনস্তাত্বিক পরিভাষায় উৎসবের অবকাশে এই মনখারাপ বা বিষন্নতার গালভরা নাম নাকি 'হলিডে ব্লুজ'। মনোবিজ্ঞানের বিশ্লেষণে এর পেছনে নাকি অনেকগুলো নির্দিষ্ট কারন থাকে। যেহেতু মনই খারাপ থাকে তাই তাকে কাটাছেঁড়া করার কোন ইচ্ছেই আমার নেই। তবে মন যে খারাপ হয়, পুজো এলেই যে আমি বিষন্নতা বোধ করি এটা সত্যি, সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সেই মন খারাপের মাত্রা ক্রমবর্ধমান।

আজ ষষ্ঠী - বাইরে পুজো প্যান্ডেলে ঢাকের আওয়াজ, মাইকে কোথাও আগমণী, কোথাও রবিঠাকুর, কোথাও হার্টবিট বাড়ানো কান-ফাটানো ধুম ধারাক্কা। মোট কথা, শুরুটা যেন হঠাৎই 'অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো'। ঢাকের আওয়াজ যত তীব্র হচ্ছে, আলো যত উজ্জ্বল হচ্ছে মন ভারি হচ্ছে। প্রথাগত রীতি মেনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এসেছে নতুন পোষাক, সেই নতুন পোষাকে সেজে মুখে কৃত্রিম আনন্দের অদৃশ্য মুখোশ লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে দেবিদর্শনে বেরোতে হয়েছিল। এই পরিক্রমায় অদ্ভুত একটা কনট্রাস্ট চোখে পড়ল। উৎসবের আনন্দে উচ্ছ্বসিত একদল মানুষের পাশাপাশি কিছু মানুষ আনন্দ, ছুটি ভুলে দারিদ্র মোচনে রাস্তায় নানান জিনিস বিক্রিতে ব্যস্ত, তার মধ্যে শিশু, বৃদ্ধও রয়েছে। অর্থাৎ উৎসব সবার জন্য নয়, আর্থিক অবস্থা উৎসবের আনন্দকে দ্বিধাবিভক্ত করে। জানিনা, এই কনট্রাস্ট আমার মন খারাপের অন্যতম কারন কি না। অভাবনীয়ভাবে, এই বৈষম্যের কোন পরিবর্তন নেই, ক্রমশ তা বাড়ছে। আমার চোখের সমস্যা এই উৎসবের সময়ে বড্ড বেশি বেড়ে যায়। চোখের সমস্যা মানে, দৃষ্টি শক্তির সমস্যা নয়, কোন দিকে দৃষ্টি দেব, এই সময় তা আমার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। যেমন আজ, পুজোর প্রথম দিনে প্রায় সবাই যখন নতুন পোশাকে সাজতে ব্যস্ত, তখন আমার চোখ চলে গেল কার নতুন পোশাক হয়নি ব’লে বিমর্ষ হয়ে আছে সেই দিকে। চারদিকে যখন আলোর উজ্জ্বলতায় ঝকমক করছে, আমার নজর তখন অন্ধকারের দিকে । আর তখনই মন খারাপ। তবুও, এই মন খারাপটাও খারাপ নয়। এই মন খারাপটাই তো প্রমাণ করে, অনুভূতি এখনোও বেঁচে আছে, আমার মধ্যে এবং নিশ্চিত আমার মত আরোও অনেকের মধ্যেই। এখন অনেক রাত। ষষ্ঠী শেষ। এবার উৎসবের সপ্তম সুর চড়বে আগামী কাল। মন খারাপ হ’লে মনের অনুভূতিগুলো বেরিয়ে আসার জন্য আকুলি বিকুলি করে । তাই কলম ধরলাম এই গভীর রাতে। জানি আমার এই মন খারাপ অর্থহীন তবুও মনকে কিছুতেই বোঝাতে পারছি না

"মনেরে আজ কহো যে ভালো মন্দ যাহাই আসুক
সত্যেরে লও সহজে...""

 

শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

 দূর থেকে ছোট লাগে

         অমরনাথ কর্মকার ১৮/০৪/২০২৬

কোনদিন যাওনি কাছে, 
বোঝনি তাই
দূর থেকে ছোট লাগে 
সব তারারাই।
অনেক আলোকবর্ষ দূরে
এমনও তারা আছে,
যার আলো এখনোও 
আসেনি তোমার কাছে।
বড় গল্পের দু'চারটে 
লাইন উধাও হ'লে 
নতুন গল্প লেখা যায়,
আসল গল্প মরে না তাব'লে।

শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫

মুখ চাপা সত্য

 মুখ চাপা সত্য


শেষ দিয়ে সত্যের শুরু 

নাকি সত্যের চির সমাধি? 

নাকি মুখ চাপা সত্যের গোঙানি

স্পষ্ট বাক্যে শোনা যাবে একদিন?

বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৪

মন ভালো নেই ষষ্ঠীতে

 

মন ভালো নেই ষষ্ঠীতে – অ না ক ০৯/১০/২০২৪

উৎসব শুরু হ’ল। প্রতি বছর লিখি ষষ্ঠী থেকে শুরু ক’রে দশমী অবদি। পুজো এলেই আমার মন খারাপ হ’তে শুরু করে। কেন ? এ প্রশ্নের উত্তর আমারও অজানা থাকে। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে প্রচুর মানুষ, অথচ এই জনারণ্যে নিজেকে নিঃসঙ্গ বোধ হয়। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে চোখ ধাঁধানো আলোর দিকে তাকাতে ইচ্ছে করে না, ঢাকের আওয়াজ কানে লাগে। অথচ উৎসব যত শেষের দিকে এগোয়, আমার মন খারাপের মাত্রাও কমতে থাকে ক্রমশ। সারা বছর ধরেই মন খারাপের অনেক কারন থাকে, কাজের ব্যস্ততায় সেই মন খারাপগুলো সুপ্ত থাকে, নিরালায় জেগে ওঠে, আবার কর্মব্যস্ততায় চাপা পড়ে যায় । পুজোর সময় উৎসবের কর্মব্যস্ততাহীন আবহে মন খারাপ করা ঘটনাগুলো একে একে ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বলেই কি দুর্গোপুজোয় আমার মন খারাপ হয় ? হয়ত তাইই, কিংবা নয়। আমি নিজেও জানি না। আজ ষষ্ঠী, আজ চরম মন খারাপ। একদিকে অভয়ার বিচারের দাবিতে আন্দোলনে আন্দোলিত রাজ্য। মাত্র কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া অভয়ার মর্মান্তিক নারকীয় হত্যাকান্ড অনুভূতিশীল প্রতিটি মানুষের মন খারাপ করার পক্ষে যথেষ্ট। এবারের পুজোয় মন খারাপের এটি একটি নির্দিষ্ট কারন। কিন্তু আমার মন খারাপ তো প্রতি বছরে ঘটনা। পুজো এলে আমার মন খারাপের উৎস সন্ধানে বার বার ব্যর্থ হয়েছি। ষষ্ঠী গেল, কোথাও যায়নি – শুধু গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা করতে একটু বাজারে যাওয়া, বাকী সময় স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী। সঙ্গী প্রাণহীন অথচ মুখর টিভি, কিংবা মোবাইল বা ল্যাপটপ। এখন উৎসব খুব প্রয়োজন। সামাজিক মাধ্যমের দৌলতে আমরা যেভাবে ভার্চুয়্যাল সম্পর্কে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি, তাতে একই পাড়ায়, একই গ্রামে থেকেও নিজেদের আত্মিক সম্পর্ক থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। দুর্গোৎসব বেশি বেশি ক’রে হোক। দুর্গোৎসবে মানুষ মেতে উঠুক।  হোয়াটস আপ্-এ প্রণাম দেওয়ার চেয়ে পাড়ার গুরজনকে অন্তত পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা যাবে, কিংবা গুরজনের আশির্বাদের হাতটা মাথা স্পর্শ করবে। বাংলা ধ্রুপদি ভাষার সম্মান পেয়েছে। উৎসবপ্রিয় বাঙালী এভাবেই তার সামাজিক ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখুক। উৎসব চলুক। উৎসবে আমার মন খারাপ হলেও বাঙালীর দুর্গোৎসবে যেন ভাঁটা না পড়ে।

পুজোয় মন খারাপ – ২০২৬

  পুজোয় মন খারাপ – ২০২৬ অমরনাথ কর্মকার ১৬ / ১০ / ২০২৬ ষষ্ঠী : সেই ছোট বেলা থেকেই খেয়াল করছি পুজো এলেই আমার মন খারা...